কৃষকদের প্রতিবাদ বৈধ, কিন্তু অবরোধ চিরস্থায়ী হতে পারে না: সুপ্রিম কোর্ট

0

দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের প্রতিবাদ যা ২৩তম দিনে পড়ল তা চলতে পারে এবং জাতীয় রাজধানীকে অবরুদ্ধ করা যেতে পারে না। এই ইস্যুতে একাধিক একগুচ্ছ আর্জির শুনানিতে বৃহস্পতিবার বলল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানালো তারা এই বিষয়টি তারা ভ্যাকেশান বেঞ্চে রেফার করবে এবং পরামর্শ দিল সরকারে যাতে আইন কার্ষকরী করতে কোনও পদক্ষেপ না করে, যতদিন না আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপাল বলেন, এই বিষয়ে আলোচনার পর তিনি আদালতের কাছে ফিরবেন।

আমরা এটা পরিষ্কার করছি যে একটি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারকে আমরা স্বীকৃতি দিই। ভারসাম্য রক্ষার বা সঙ্কুচিত করার কোনও প্রশ্ন নেই। তবে কারও জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যেতে পারে না। বলেন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে।

বিতারপতি বোবদে বুধবার বলেছিলেন, বিষয়টি একটি কমিটিকে দেওয়া উচিত। এদিন তিনি বলেন, কমিটিতে স্বাধীন সদস্যদের থাকতে হবে, যাদের কৃষিকাজ নিয়ে জ্ঞান আছে এবং কী করা উচিত, তারা এই বিষয়ে রিপোর্ট দেবে। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, অহিংসভাবে আন্দোলন চলতে পারে এবং আন্দোলন থামাতে পুলিশ কিছু করবে না।

তিনি জানান, প্রতিবাদের উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে অহিংস পদ্ধতিতে। প্রতিবাদ কোনও বিষয়ের ওপর হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত দলগুলিকে কথা বলতে দিতে হবে এবং যারা সমস্যার জন্য দায়ী তাদের জবাব দিতে, দিতে হবে।

কেন্দ্র বলে, কৃষকরা শুধু মাত্র আইন বাতিল করার দাবি করতে পারে না, তারা ধারা ধরে ধরে আলোচনার ওপরে জোর দেয়। আদালত বলে, আমরা গতদিন দেখেছি, কেন্দ্র আলোচনায় সফল নয়। আমাদের মনে হয় না কৃষকরা আপনাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। কমিটিকে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হোক।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম, যিনি দিল্লি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, বলেন, যদি আপনারা এতগুলি সংশোধনী করেন, তবে মূল আইনটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কৃষকরা বলছে এই আইন গ্রহণযোগ্য নয়। তাই নতুন আইন আনুন ও সংসদে আলোচনা করতে দেওয়া হোক।

আদালত বলে, কৃষি আইনের বৈধতা নিয়ে তারা কিছু বলবে না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা চলতি প্রতিবাদ ও স্বাধীনভাবে যাতায়াতের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলছি। আইনের বৈধতা এখন অপেক্ষা করতে পারে।

কৃষকদের আদালত বলে, তাদের রাস্তা অবরোধের পদক্ষেপ দিল্লির মানুষকে ক্ষুধার্ত করে রেখেছে।

আমরা কৃষকদের দুর্দশার সঙ্গে আছি এবং তাদের কারণের প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল। তবে আপনাদের পখ বদল করতে হবে, যে পথে এটা চলছে। ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের বলেন প্রধান বিচারপতি।

আদালত বলে, আমরা এটা্ আপনাদের বলছি। আপনাদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না। আপনারা প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন। আপনাদের প্রতিবাদের একটা উদ্দেশ্য আছে। তা পূরণ করতে কারও সঙ্গে কথা বলা উচিত। আপনারা শুধু প্রতিবাদে বসে থাকতে পারেন না বছরের পর বছর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here