নিয়মিত ড্রাগ নিতেন আরিয়ান, কোর্টে জানাল NCB

0

সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানের (Ariyan) কাছে মাদক পাওয়া যায়নি ঠিকই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি জামিন পাওয়ার উপযুক্ত। বৃহস্পতিবার আদালতে একথা বলেছেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং। আরিয়ানদের মামলার সঙ্গে তিনি মডেল রিয়া চক্রবর্তী ও সৌভিক চক্রবর্তী মামলার তুলনা করেন।

 

তাঁদের কাছেও মাদক পাওয়া যায়নি। কিন্তু আদালত রিয়া এবং তাঁর ভাই সৌভিক সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। অনিল সিং বলেন, এনসিবি যে প্রমাণ পেয়েছে, তাতে পরিষ্কার, গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ড্রাগ নিতেন আরিয়ান। তাঁর বন্ধু আরবাজ মার্চেন্টের কাছে যে মাদক পাওয়া গিয়েছে, তা আরিয়ানেরও সেবন করার কথা ছিল। এনসিবি-র কৌঁসুলি বলেন, আরবাজের কাছে কী পরিমাণ মাদক পাওয়া গিয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, আরবাজের মারফত্‍ আরিয়ান মাদক পেতেন। কারও সঙ্গে যদি মাদক চক্রের যোগ থাকে, তাঁকে শাস্তি পেতে হয়। বুধবার আদালতে আরিয়ানদের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। এদিন অনিল সিং বলেন, আরিয়ানের সঙ্গে কয়েক বছর আগে আরবাজের বন্ধুত্ব হয়েছিল। আরিয়ানের কাছে মাদক পাওয়া যায়নি ঠিকই কিন্তু আরবাজের কাছে যে মাদক আছে, সেকথা সে জানত।

 

আরিয়ানের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট থেকে সেকথা জানা গিয়েছে। এর মধ্যে জানা গিয়েছে, সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানকে যখন নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর অফিসে নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর আশপাশে ছিল এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। একটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে তার মুখ দেখা গিয়েছে। তাকে নিয়ে ঘনিয়ে উঠেছে রহস্য। সেই লোকটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য লুক আউট নোটিশ জারি করেছে পুনে পুলিশ।

 

পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম কে পি গোসাবি। ২০১৮ সালে তার নামে জোচ্চুরির মামলা হয়েছিল। তখন থেকে সে আত্মগোপন করে আছে। লুক আউট নোটিশ জারির ফলে সে দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না। পুনে পুলিশের কমিশনার অমিতাভ গুপ্ত জানিয়েছেন, গোসাবির নামে ফরাসখানা থানায় অভিযোগ জমা পড়েছিল। নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো জানিয়েছে, আরিয়ানদের বিরুদ্ধে মামলায় যে ন’জন সাক্ষী জোগাড় করা হয়েছে, গোসাবি তাদের মধ্যে একজন। সে নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর কোনও অফিসার বা কর্মী নয়। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক ইতিমধ্যে এনসিবি-র অফিসে গোসাবির উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।

 

মহারাষ্ট্র পুলিশ বলেছে, ২০১৮ সালে গোসাবি পুনের এক ব্যক্তির থেকে মালয়েশিয়ায় চাকরি করে দেবে বলে টাকা নিয়েছিল। চিন্ময় দেশমুখ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গোসাবি তাঁর থেকে ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা নিয়েছে। গোসাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছিল, মালয়েশিয়ায় কয়েকটি হোটেলে কিছু পদ ফাঁকা আছে। চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে চিন্ময়ের থেকে দফায় দফায় টাকা নেয়। সে বলেছিল, চাকরি করে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেবে। কিন্তু ফেরত দেয়নি। গোসাবি নিজেকে প্রাইভেট ডিটেকটিভ বলে পরিচয় দেয়। অভিযোগ, সে বিদেশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আরও অনেকের থেকে টাকা নিয়েছে।

Previous articleঅসুস্থ হয়ে AIIMS-এ ভর্তি মনমোহন সিং, আরোগ্য কামনায় নমো
Next articleষষ্ঠীর পর নবমীতেও ফের বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here