মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান, আটক আং সান সু কি

0

ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সরকার-সেনার দ্বন্দ্বের জেরে ক্ষমতা হারালেন মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। এদিন মায়ানমারের মিলিটারির অধীন টিভি চ্যানেল মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয় যে এক বছরের জন্য দেশের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিল সেনাবাহিনী।

জানা গিয়েছে যে এই মুহূর্তে আটক করা হয়েছে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি কে। আটক রাষ্ট্রপতিও। রবিবার গভীর রাতে রাজধানীর দখল নেয় সেনা। সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তারা কেটে দিয়েছে। তাই মায়ানমারের রাজধানী নেপিটোয় ছিন্ন সব ফোন ও ইন্টারনেটের লাইন। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ বেশ কিছু দেশ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন যে আমেরিকা অত্যন্ত উদ্বিগ বর্মায় যেভাবে সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। হালে হওয়া নির্বাচনের ফলাফলকে বদলানো বা মায়ানমারে গণতন্ত্র আসার পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করা হলে সেটার বিরোধিতা করবে আমেরিকা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করে দেন জো বাইডেনের মুখপাত্র।

অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী ম্যারিসে পেইনও বলেছেন যে তাঁরা চান ভোটের ফলাফলকে মর্যাদা দেওয়া হোক ও সু চি কে মুক্ত করা হোক। গত নভেম্বরের ভোটের পর আজই শুরু হওয়ার কথা ছিল সংসদ। তার আগেই আটক করা হয় ৭৫ বছর বয়সী সু চি কে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অহিংস প্রতিবাদ করে জনপ্রিয় হন তিনি। তাঁর সংগ্রামের জেরেই শেষ হয় সামরিক রাজ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় দেশে, যদিও অনেকাংশে ক্ষমতা উপভোগ করে সেনাও।  হালে হওয়া ভোটেও অধিকাংশ আসনে জয়ী হয় তাঁর দল। কিন্তু মিলিটারি অভিযোগ করে যে ভোট জালিয়াতি হয়েছে যদিও তার কোনও প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনও সেই অভিযোগ খণ্ডন করে। গত সপ্তাহেই সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে বলা হয় যে তারা আইন মোতাবেক সংবিধান মানবেন। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থান হবে না, এমন কোনও প্রতিশ্রুতি তারা দেন নি। আইন না মানা হলে সংবিধান নাও মানা যেতে পারে সেই কথাও গত সপ্তাহে বলেছিল সেনা।

এরপর থেকেই উড়তে থাকে সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব। একই সঙ্গে সাঁজোয়া গাড়ির আধিক্যে সেই সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে গত কাল ও পরশু বারবার বলা হয় যে সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সব আশঙ্কা সত্যি করেই ফের ডামাডোল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে। ইতিমধ্যেই মায়ানমারে হওয়া রোহিঙ্গ সমস্যার জেরে জেরবার বাংলাদেশ সহ অন্যান্যরা। এই সামরিক অভ্যুত্থানের পর জল কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here