১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে শুরু ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, জেনে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি তথ্য-

0

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে এ রাজ্যের কয়েক লক্ষ মহিলার। ১৬ আগস্ট থেকে এ রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। ১৬ অগস্ট থেকে দুয়ারে সরকার প্রকল্প পুনরায় চালু হয়ে যাচ্ছে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেখানেই পাওয়া যাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র। এই প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ে আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন রাজ্যের মহিলারা। প্রতিমাসে সরকারের ঘর থেকে সরাসরি আবেদনকারী মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা।

১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে শুরু ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, জেনে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি তথ্য-

Read More-রাজ্যে ফের নয়া চিটফান্ড সংস্থার বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান

২৫ থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মূলত তপশিলি জাতি-উপজাতি মহিলাদের জন্য মাসে ১০০০ টাকা ও সাধারণ মহিলাদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেবে রাজ্য সরকার।

জেনে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি তথ্য-

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে কীভাবে আবেদন করবেন মহিলারা? কীভাবেই বা আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে? কোথায় সেই আবেদনপত্র জমা দিতে হবে তা অবশ্যই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।এ রাজ্যের মহিলারা যাতে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা পান, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পে সূত্রপাত।

সেক্ষেত্রে ১৬ তারিখ থেকে আপনার নিকটতম দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদনপত্রটি পূরণ করে সেই ক্যাম্পেই পুনরায় জমা দিতে হবে উপভোক্তাদের। একইসঙ্গে ক্যাম্প থেকে ফেরত নিয়ে নিতে হবে আবেদনপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার রশিদও।

Read More-রাজ্যে ফের নয়া চিটফান্ড সংস্থার বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান

এছাড়াও এই ফর্ম পাওয়া যাবে অনলাইনেও। নিকটতম যে কোনও সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম ডাউনলোড করতে হবে উপভোক্তাদের। ফর্ম পাওয়া যাবে দুয়ারে সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। তারপর সেটি প্রিন্টআউটের পর পূরণ করে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে জমা দিয়ে দিলেই হবে।তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, যে মহিলাদের নামে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কার্ড রয়েছে, তাঁরাই মূলত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।আবেদনকারীদের ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নাম্বারও দিতে হবে। এছাড়াও নিজের সম্পূর্ণ ঠিকানা, বয়স, জাতিগত শংসাপত্র সমস্ত তথ্যই উল্লেখ করতে হবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের আবেদনপত্রে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন করতে হলে কি কি নথি লাগবে?

প্রথমত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন পত্র পূরণ করতে যাওয়ার সময় আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ফর্মের সব চেয়ে উপরে রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি নির্দিষ্ট বক্সে লাগাতে হবে আবেদনকারীদের। ফর্ম পূরণ হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, আধার, ভোটার, রেশন কার্ড,  মোবাইল নম্বর ছাড়াও ব্যাঙ্কের পাশবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স কপি দিতে হবে। শুধু তাই নয়, তপশিলি জাতি উপজাতি শংসাপত্রের জেরক্স কপিও দিতে হবে। সব নথিপত্রের জেরক্স কপিতে নিজের সই করে প্রত্যায়িত করতে হবে উপভোক্তাদের।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

এই প্রকল্পে এমন উপভোক্তারা সুবিধা পাবেন না-‌যাঁরা আয়কর রিটার্ন জমা করেন। এছাড়াও যাঁরা সরকারি চাকরি করেন। যাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী অর্থাৎ পেনশন প্রাপকরা এই সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি যদি কোনও মহিলা যে কোনও সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাবেন না-তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here