মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৃতীয়বারের এনডিএ সরকারকে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত। জানালেন, বিরোধীদের শত্রু না ভেবে সমান গুরুত্ব দেওয়া হোক। তাদের বিরোধী পক্ষ না ভেবে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করা হোক।
গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত আক্রমণের জেরে মোদী-শাহের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। তৃতীয়বারের শপথ গ্রহণের পরের দিনই সঙ্ঘপ্রধানের এহেন বার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।
নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভাগবত। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংসদে দুটি দিক রয়েছে। একটিতে রয়েছে শাসকদল ও আরেকদিকে বিরোধী পক্ষ। সেখানে একপক্ষই একতরফা গুরুত্ব পেয়ে যাবে, এমনটা নয়। দুপক্ষের দাবি, বক্তব্য বা পরামর্শ বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। এর ফলে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তিনি বিরোধী পক্ষ বলার পক্ষে নয়। বদলে প্রতিপক্ষ বলারই পক্ষে তিনি। কোনওভাবেই প্রতিপক্ষকে বিরোধী বলে দেগে দেওয়াটা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, একজন তখনই সেবক হিসেবে মান্যতা পাবেন,যখন তিনি কোনও অহং ছাড়াই কাজ করবেন। এমনটা করা হলে তিনি নিজেকে সেবক বলে দাবি করতে পারবেন। সঙ্ঘপ্রধানের দাবি তাঁরা প্রতিটি ভোটে জনমতকে পরিমার্জিত রূপ দেওয়ার কাজ করে থাকেন। এবারও তাই করেছেন। তাঁর মতে, সংসদে নানা বিষয়ে স্বচ্ছ ঐক্যমত গড়ে তোলা জরুরি। সঙ্ঘের ঐতিহ্যই হল ঐক্যমতের বিকাশ। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল আর আগের এনডিএ সরকার বিরোধীদের বিব্রত করতে ইডি,সিবিআইকে এগিয়ে দিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বিরোধী দলের মন্ত্রী, নেতাদের। এর পেছনে প্রতিহিংসার আগ্রাসন নিয়ে গোড়া থেকেই সরব হয়েছিল বিরোধীরা। তাদের বিপাকে ফেলতে একের পর এক বিব্রতকর পদক্ষেপ নিয়েছিল মোদী-শাহের সরকার। এবার ভোটের প্রচারে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা রীতিমতো বেআব্রুভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। আক্রমণ কখনও কখনও সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল বিরোধীরা। এবার তাতে লাগাম পরানোর বার্তা দিয়ে শাসকদলকে সংযমের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন ভাগবত।
