নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ বামেদের, কী কী আছে জেনে নেওয়া যাক…

0

নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যে সহমতের ভিত্তিতে হবে শিল্পায়ন। সুতরাং সিঙ্গুর–নন্দীগ্রাম থেকে একদিকে তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন, অন্যদিকে ওই ইস্যুতে তৎকালিন সময়ে বাড়াবাড়ি হয়েছিল এই ইস্তেহার প্রকাশ করে তা কার্যত মেনে নিলেন বাম নেতারা। বামেরা এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছে সংযুক্ত মোর্চার মাধ্যমে। সেখানে রয়েছে কংগ্রেস ও আইএসএফ। বিমান বসু বলেন, ‘এটি বামফ্রন্টের ইস্তেহার। আগে একটি খসড়া ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছিল। আজ চূড়ান্ত ইস্তাহার প্রকাশ করা হল। পরে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্র প্রকাশ করা হবে।’‌

এবারের নির্বাচনে চাকরি ও শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লড়ছে সংযুক্ত মোর্চা। কী কী আছে সেখানে জেনে নেওয়া যাক—

১)‌শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নির্দিষ্ট এলাকায় সহমত তৈরি করে, পরিবেশগত প্রভাবের কথা বিচার করে করা হবে। অধিগৃহীত জমির জন্য পরিবারগুলিকে লাভজনক মূল্য দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অন্তত একজনকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২)‌চিটফান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেআইনি চিটফান্ডগুলির দাপট আইন ও প্রশাসনের সমস্ত শক্তি দিয়ে রুখতে হবে, বেআইনি অর্থ লুণ্ঠনকারী চিটফান্ডের কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। জনগণের গচ্ছিত টাকা তাদের হাতে ফেরত দেওয়া সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করা হবে।

৩)‌তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নিয়মিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৪)‌ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত এনআরসি চালু না করার কথা বলা হয়েছে ইস্তেহারে।

৫)‌দীর্ঘদিন বাস করছেন এমন জমিতে যাতে তিনি সপরিবারে ৯৯ বছর থাকতে পারেন সে কথা মাথায় রেখেই লিজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

৬)‌ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা আরও ঢেলে সাজানো হবে। আগেও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শক্তিশালী ছিল। নিয়মিত গ্রামসভা বা গ্রাম সংসদ বসত। পরিবারের একজন করে আসতেন। তাই সকলে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে পারতেন।

৭)‌রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও ঢেলে সাজানো হবে। তকমাধারী সুপার স্পেশালিটি নয়। বরং গরীব মানুষ যাতে সঠিক চিকিৎসা পায় সেই ব্যবস্থাই করা হবে।

৮)‌রাজ্যে এখন বেশিরভাগ গ্রন্থাগার বন্ধ। কর্মী নেই। সেখানে জেলায় জেলায় গ্রন্থাগার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মী নিয়োগে জোর দেওয়া হবে।

৯)‌রাজ্যজুড়ে বিপুল কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার উপর ভিত্তি করে কর্মসংস্থান করা হবে। সবস্তরের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের কথা ভাবা হয়েছে।

১০)‌কৃষিতে জোর দেওয়া হবে। কৃষকদের দুর্দশা কাটাতে ফসলের ন্যায্য দাম দেওয়া হবে। আর বৃহৎ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে রাজ্যে ঢেকে আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here